|| এসএসসির রেজাল্ট তো পেলাম। এখন কোথায় ভর্তি হবো? ||
জল্পনা-কল্পনার ভিতর দিয়েই প্রকাশিত হয়ে গেল এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট। বরাবরের মতো এবারও হাসি-কান্নার দোল খেলে গেলো সবার মাঝে।
কারও রেজাল্ট একটু খারাপ হয়েছে বিধায় কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। ওদিকে 'পাশের বাসার আন্টিও' আগুনে ঘি ঢালতে বাকি রাখছে না। তাই এতোদিন তোমার রেজাল্টের দিকে মুখ চেয়ে থাকা বাবা-মাও তোমাকে হয়তো হালকা বকাঝকা করেছে। এজন্য কষ্টে বুকটা আরও ফেঁপে উঠছে। খুব কম মানুষই পেরেছে বাস্তবতাটিকে সহজভাবে মেনে নিতে।
ওদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেমেয়েদের আনন্দের শেষ নেই। একটার জন্য গোল্ডেন ছুটি গেছে বিধায় ঐ সাবজেক্টে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে সে মোটেই ভুলেনি। নিজের ভাগ, ছাড়বো কেনো!
অতীত পর্ব শেষ হলো। এবার বলি আগামীদিনের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের নানা ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গুরুত্ব অস্বীকার করার মতো নয়। কিন্তু বড় অর্জনকে মহৎ অর্জনের কাতারে ফেললে 'বড় নয় মহৎ ভুল' হয়ে যায়। এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া একই জিনিস নয়। কিন্তু হ্যাঁ, যথাযথভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে এসএসসির মতো এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পাওয়া সম্ভব। কেননা তোমরাই তো তা পেয়ে থাকো। শুধু এতটুকু বলতে চাচ্ছি দুটোকে এক না ভেবে বিষয়টিকে সিঁড়ি হিসেবে কল্পনা করো। 'এসএসসির মতো ইন্টারেও এভাবে জিপিএ-৫ পেয়ে যাবো' যাস্ট এই চিন্তাকে পরিশুদ্ধ করানোর এতো প্যাচাল।
এবার বলি কে কোথায় ভর্তি হবা। বলে রাখি নিতান্ত দুর্বল ছাত্রছাত্রীদের জন্য 'ইন্টারের বিজ্ঞান' না। ভাগ্যের জোরে টেনে-হিচরে ইন্টার পাশ করেই বা তুমি কি করবে? দেশে এমনিতেই চাকরির গৃহযুদ্ধ চলছে। তার চেয়ে ভাল সুন্দর বিকল্প গ্রহণ করা। 'ডিপ্লোমা', 'নার্সিং' সহ এরকম অসংখ্য সম্মানজনক পথ রয়েছে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার। সবাইকে একপথে হাটলে চলবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্মানজনক পেশার দিকেই আগানো উচিত।
অপরদিকে যারা ইন্টার এবং ভার্সিটি নামক কঠোর পরিশ্রমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখো তাদের জন্য মোটেই সমীচীন অন্য পথ গ্রহণ করা। ভার্সিটি পাশ করেও তুমি কম্পিটার ইঞ্জিনিয়ার, ইলেট্রিক ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ রাখো। তার চেয়ে বড় কথা তুমি উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকা-জাপান যেতে পারবে। গবেষণা করতে পারবে। দেশের সম্মান বৃদ্ধি করতে পারবে।
আজ অনেক প্যাচাল পেরে ফেলেছি। আজ থাক। ইতিকথা এই যে, তুমি ভাল কলেজে ভর্তি হবার চেষ্টা করবে, প্রথম থেকেই পড়াশুনার জন্য উদ্দ্যোমী হবে, প্রয়োজনে কোচিং করবে। তুমি নিজেও হয়তো জানো না, 'আগামীকাল মানুষ তোমার কথায় শুনবে'।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন