|| বেশি এন্টিবায়োটিক গ্রহণে অপেক্ষা করছে অশুভ পরিণতি ||
|| প্রথমেই জেনে নিই এন্টিবায়োটিক কি ||
এন্টিবায়োটিক একধরনের প্রাকৃতিক কেমিক্যাল যা নির্দিষ্ট রোগসৃষ্টিকারী 'ব্যাকটেরিয়াকে' মেরে ফেলে দেহকে আরোগ্য দান করে। মজার ব্যাপার হলো এন্টিবায়োটিক নিজেই অন্য কোন ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয় যেটা কিনা অপর কোন রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সক্ষম। প্রচলিত এক প্রবাদ আছে, 'সব ভাইয়েরই ভাই আছে'।
|| এরপর জানি এন্টিবায়োটিক কখন খাওয়া উচিত ||
মানবদেহের এক অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে জীবাণুকে প্রতিহত করার। আমাদের দেহের মধ্যে সাজানো আছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নানা সৈনিকদল। শত্রু এলে এরা যুদ্ধ করে। এটাকে ইংরেজিতে বলে 'ইমিউন সিস্টেম'। কিভাবে এবং কেনই যে প্রাণীদের মাঝে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপত্তি হয়েছে তা এক বিরাট রহস্য।
দেহের ভিতর কোনভাবে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যায়। অধিকাংশ সময়ই ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া দেহের সৈনিকদের কাছে হেরে যায়। জেনে রাখা উচিত যুদ্ধ চলাকালীন সময় দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যুদ্ধ থেমে গেলে জ্বরও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এজন্য দেহে দুই-তিন দিন জ্বর থাকা ভাল।
কিন্তু আক্রমনের সময় দেহের 'ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা' কোনকারণে দুর্বল থাকলে যুদ্ধ অনবরত চলতেই থাকে; দেহের তাপমাত্রা বেড়েই যায়। এজন্য দুই-তিনদিন অপেক্ষা করার পরও জ্বর ভাল না হলে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক মিত্রপক্ষীয় 'এন্টিবায়োটিক' বা অন্যান্য 'Antimicrobial Drug' গ্রহণ করতে হয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলো মারা যেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত দেহেরই জয় হয়। মানুষ সুস্থ হয়ে উঠে। আরেকটা মজার তথ্য দিই। একবার যুদ্ধে হেরে যাবার পর এরা দেহের সৈনিকদের কাছে কালার(!) হয়ে যায়। পরবর্তী জীবনে ঐ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আবার দেহে প্রবেশ করলে তারা খুব বেশি কুলিয়ে উঠতে পারেনা। কেননা দেহের আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা থাকে ----- (১)।
কিন্তু....
কিন্তু 'এন্টিবায়োটিক' গ্রহণে আমাদের অবহেলা এবং অসচেতনতা ডাক্তারদের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: সামান্য সর্দি-কাশি হলেই আমরা ডিসপেনসারি থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে গট করে খেয়ে ফেলে। দেহটাকে যুদ্ধ করার জন্য সুযোগই দিতে চাই না। সারাজীবন দেহের সৈনিকদের অকর্মণ্য করেই রেখে দিতে যায়। এতে যেটা হয় সমীকরণ (১) এর ঘটনাটি ঘটার চান্স কমে যায়।
এটা তো তেমন কোন বড় বিষয়ই না। সবচেয়ে বড় সমস্যা সামনে অপেক্ষা করছে। আমরা যেমন নিজের মন মতো দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে এনে খেয়ে ফেলি, ঠিক তেমনি সামান্য একটু উপশম হলেই নিজের মন মতো তা আবার খাওয়া ছেড়েও দেই। আমাদের জানতে হবে, সর্দি-কাশি একটু ভাল হয়েছে মানে এই নয় যে, দেহের সব ব্যাকটেরিয়া মারা পরেছে। তারা তখনও দেহে থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, বেঁচে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো এক অদ্ভূত ক্ষমতা লাভ করে ফেলে। ঐ নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক যেটা আপনি কয়েকদিন খেয়ে আবার ছেড়ে দিয়েছিলেন সেটা আর ঐ ব্যাকটেরিয়াগুলো মারতে কখনও কাজ করবে না। আপনার হাঁচি-কাশি মাধ্যমে আপনার দেহের ঐ বেঁচে যাওয়া ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্যের দেহে পাঠালেও ঐ ব্যক্তির দেহেও ঐ নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না। সহজ কথায় ওদের পুরো বংশধর এখন অদ্ভূত ক্ষমতা লাভ করে ফেলেছে; ঐ এন্টিবায়োটিকে আর মরবে না তারা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে 'Antibiotic Resistance'.
এতো গেলো সাধারণ সর্দি-কাশির উদাহরণ। অন্য কোন জটিল রোগের ক্ষেত্রে এমন হলে কি ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে চিন্তা করতে পেরেছেন! ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে দেহে সামান্য Infection হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে। কেননা আপনার অসচেতনতা এবং অবহেলার কারণে এন্টিবায়োটিকগুলো দিন দিন অকেজো হয়ে পড়ছে। অণুজীববিজ্ঞানীরা বলে থাকেন যে, 'এমন একসময় আসবে যখন মানুষ সাধারণ সর্দি-কাশিতে মারা যাবে এই Antibiotic Resistance' এর কারণে।'
[সতর্কতা: এন্টিবায়োটিক গ্রহণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যতদিন খেতে বলে ততদিনই খাবেন। অর্থাৎ কোর্স কমপ্লিট করবেন। সাথে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখবেন, দুর্ঘটনা বা অন্য কোন কারণে ক্ষত সৃষ্টি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। কেননা মানুষের অযত্নে সামান্য ক্ষত থেকে বিরাট Infection হতে পারে। বিশেষত ক্ষত দীর্ঘদিন ধরে না শুকালে দ্রুত ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হোন। কেননা ক্ষতে Infection হয়ে গেছে। এখন এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। কিন্তু... ঐ একই কথা আবারও; কোর্স কমপ্লিট করতে হবে]

অনেক ধন্যবাদ কথা গুলোর জন্য !
উত্তরমুছুন